বৈষম্যহীন পুটখালি গড়তে চান হাবিবুর রহমান হবি দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা ও জনসেবার অভিজ্ঞতা নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ

0
78
Oplus_16908288

বেনাপোল( যশোর ) প্রতিনিধিঃ যশোরের জেলার সীমান্তবর্তী বেনাপোল পোটথানার ৫নং পুটখালি ইউনিয়নকে বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পুটখালি ইউনিয়নের আবাল বৃদ্ধা বনিতা সকলের প্রিয় মুখ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, বিএনপির নেতা আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হবি।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে মানুষের পাশে থেকে ছেন তিনি।তিনি একাধিক মসজিদ মাদ্রাসাসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব রয়েছেন।এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বেনাপোল মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়, বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে পুটখালী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হবি।তাঁর ভাষ্য, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নে কোনো ধরনের হানাহানি, বিভেদ বা বৈষম্য থাকবে না। দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
১৯৬৪ সালের ৯ই সেপ্টেম্বরের ২৬ তারিখে তিনি জন্মগ্রহণ করেন বেনাপোল পোটথানার ৫নং পুটখালি ইউনিয়নের শিকড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ঘরে। তার পিতার নাম মিত্যু আলহাজ্ব কাশেম আলী। তার গর্ভধারিনী মায়ের নাম মৃত্যু হাজি বাহারুন নেছা। শৈশব কৈশোব সবই কেটেছে এই গ্রামে। তাই এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের সাথে রযেছে গভীর সম্পর্ক। তাদের সুখ দুঃখে তিনি হাত বাড়িয়ে দেন। আপদে বিপদে তাদের খোঁজখবর রাখেন শুধু তাই নয় এলাকায় অসুস্থ মানুষের পাশে তিনি গিয়ে দাঁড়ান এবং তার খোঁজখবর নেন এছাড়া অসুস্থ রোগীদেরকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেই থাকেন। এসব খেটে খাওয়া মানুষের দাবির মুখে তিনি সর্বপ্রথম মেম্বারের দাঁড়ান এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।পরবর্তীতে তিনি পর পর ৩বার মেম্বারে দাঁড়ান এবং ৩বারই তিনি নির্বাচিত হন। এরপর আর পিছন দিকে তাকাতে হয় নাই।এরপর তিনি পুটখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের পদে দাঁড়ান এবং জনগণের ব্যাপক ভোটে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত সতোরো বৎসর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন হুমকি ধামকি এবং একাধিক মামলার কারনে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান।কিন্ত এখন তার ভালোবাসার মানুষ গুলোর দাবির মুখে আজ তিনি নির্বাচন করতে রাজি আছেন যদি দল তাকে মনোনয়ন দেন।
এই সাবেক চেয়ারম্যান একটি কথা না বললেই নয় তিনি তার পিতা হাজী কাশেম পুটখালী ইউনিয়নে বিভিন্ন শরতের শত শত জাম কাঁঠাল তালগাছ কিন্তু রোপন করেছে। বেনাপোল ছোট থেকে পুটখালী রোডে শত শত আমগাছ কাঁঠাল গাছ, বেলগাছ, তালগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতের গাছ রোপন করেছেন। এলাকার কৃষকও পথচারীরা এসব গাছের তলায় প্রখর রৌদ্রে একটু স্থান নিতে পারে সেই জন্য এসব কাজগুলো তিনি রাস্তায় দু ‘পাশ দিয়ে রোপন করেছেন। তিনি আরো বলেন এসব গাছের ফলগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে । রাস্তার দু’ধারে এই গাছ লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা আমার পারিবারিক শিক্ষা আমার পিতা কাসেম আলী ছিলেন একজন গাছ প্রেমিক তার হাতের এই পুটখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে রোপন করা আছে বিভিন্ন প্রজাতের গাছ। তিনি বলেন এই পিতার ধারাবাহিকতা আমি চলমান রেখেছি । পাশাপাশি গাছ আমাদের পরিবেশ যেমন রক্ষা করে পাশাপাশি গাছ থেকে আমরা অক্সিজেন নিয়ে থাকি।
রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার দাবি করেন সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি ।
তিনি এই পুটখালী ইউনিয়নের খলশী বাজারের প্রধান সড়কের পাশে মেহেরুন হাবিব নামে হাফিজিয়া মাদ্রাসা বেনাপোল গয়ড়া গ্রামে মেহেরুন হাবিব দাখিল মাদ্রাসা ‘শার্শার ধলদা গ্রামে সেলিন জাহাঙ্গীর হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেছে । এসব ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েকশো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যয় বহনের পাশাপাশি এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রেখে থাকেন।
এ ছাড়া রাস্তা, কবরস্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, প্রায় ৪৮ বছর ধরে তাঁদের পরিবার জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরে এই রাজনীতিবিদ হাবিবুর রহমান হবি বলেন, বিএনপির আদর্শিক রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি কখনো দুর্নীতি বা অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে নিজেকে জড়াননি।
চেয়ারম্যান হতে চান কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“আমি পুটখালী ইউনিয়নকে বৈষম্যহীন রাখতে চাই। এখানে কোনো হানাহানি-কাটাকাটি থাকবে না। দল-মত নির্বিশেষে সব মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বললে তাঁরা সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি কে এই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে পেতে চাই। আবার অনেকে চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের কেউ তাঁকে সৎ, মানুষ আখ্যা দিয়ে বলেন আমরা সাধারণ মানুষ হবি ভাই মতোএমন ধরনের একজন চেয়ারম্যান চাই আমরা চাই। একজন আবেগেই বলে ফেললেন সাবেক চেয়ারম্যান হবি ভাই এমন একজন ব্যক্তি যাকে সুখ দুঃখে সকাল- সন্ধ্যায় পাওয়া যায।
প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে, চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের বিষয়ে আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হবি বলেন, দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে জনগণের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহপাক যদি আমাকে সুস্থ শরীরে রাখেন, তাহলে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এই পুটখালি ইউনিয়নের মানুষের শান্তি ও কল্যাণের জন্য কাজ করব। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চাই।”
আসন্ন পুটখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী হবেন এবং দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here