যশোরে খাটুরা বাওড় দখলের অভিযোগে মৎস্যচাষিদের মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি

0
1

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাওড় জোরপূর্বক দখল, মাছ আহরণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন খাটুরা বাওড় মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা। পরে বাওড়টি দখলমুক্ত করে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মমতাজ বেগমের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন তাঁরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘জাল যার, জল তার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে খাটুরা বাওড় মৎস্যজীবী সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির নেতা আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বাওড়ের ১০১ জন মৎস্যজীবী সদস্য অংশ নেন। এ সময় তাঁরা বাওড় দখলের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে মৎস্যচাষিরা অভিযোগ করেন, মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাওড়টি সরকারি মালিকানাধীন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিয়ে খাটুরা বাওড় মৎস্যজীবী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাছ চাষ ও আহরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
তাঁদের দাবি, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের সহযোগিতায় একটি মহল জোরপূর্বক বাওড়টি দখল করে নেয়। এরপর থেকে সমিতির সদস্যদের বাওড়ে মাছ ধরতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মাছ আহরণের চেষ্টা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
মৎস্যজীবীরা জানান, খাটুরা বাওড়ের ওপর নির্ভর করে সমিতির ১০১ জন ভূমিহীন সদস্য ও তাঁদের পরিবার জীবিকা নির্বাহ করেন। বাওড়ে মাছ আহরণ করতে না পারায় এসব পরিবারের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মৎস্যচাষিরা বলেন, বাওড়টি তাঁদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন। দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ ও আহরণের মাধ্যমে তাঁরা পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করে আসছেন। বর্তমানে মাছ ধরতে বাধার মুখে পড়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি ইজারার শর্ত অনুযায়ী বাওড়ে মাছ চাষ ও আহরণের অধিকার নিশ্চিত, দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান সমিতির সদস্যরা।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে খাটুরা বাওড়ের বর্তমান পরিস্থিতি তদন্ত ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
তবে বাওড় দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here