থৈথৈ পানিতে ম্লান দুর্গোৎসব : জলাবদ্ধ ভবদহে নেই উৎসবের আমেজ

0
397

রাজয় রাব্বি, অভয়নগর (যশোর) : টানা চার মাসেরও বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে যশোরের
দুঃখখ্যাত ভবদহবাসী। চারদিকে থৈথৈ পানি, হাঁটা-চলার উপায় নেই। এমন করুণ
পরিস্থিতিতেই শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব
দুর্গাপূজা। আনন্দ উৎসবের রঙিন ছোঁয়া নেই, ছড়িয়ে আছে দুঃখ আর
দুর্দশা।
তারপরও ধর্মীয় রীতি রক্ষায় থেমে নেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। থইথই পানির মধ্যেই
মণ্ডপ প্রতিষ্ঠা করে চলছে পূজা। কিন্তু অভয়নগরের প্রেমবাগ, সুন্দলী, পায়রা ও
চলিশিয়া ইউনিয়নের ভুক্তভোগীদের মনে নেই উৎসবের কোনো আমেজ। থৈথৈ
পানির চাপে হারিয়ে গেছে দুর্গোৎসবের আনন্দ। দেবী বরণের খুশি বদলে বুকভরা
কষ্ট আর অশ্রুতে ভিজছে ভবদহবাসীর জীবন।
উপজেলা পরিষদের তথ্যমতে, এ বছর অভয়নগরে ১২৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয়
দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। এর মধ্যে নওয়াপাড়া পৌরসভায় রয়েছে ১৯টি
পূজামণ্ডপ। তবে বেশ কিছু মন্দির প্রাঙ্গণ পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক মন্দিরে
পূজা অর্চনার ন্যূনতম পরিবেশও নেই। যে স্থানগুলোতে প্রতিবছর মেলা বসে,
সেগুলোতেও এখন কোমরসমান পানি।
উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডহরমশিহাটি গ্রামের বাসিন্দা সোমনাথ বিশ্বাস
বলেন, গত এক মাস ধরে সংসারে আয়-রোজগার বন্ধ। মাছ ধরে কোনোমতে জীবন
চালাচ্ছি। পূজা এখন আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য নয়। চলিশিয়া ইউনিয়নের
বলারাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের কোনো পূজা নেই। ছেলে-মেয়েদের
নতুন জামাকাপড় কিনে দিতে পারছি না। পানিও নামছে না। আমাদের কষ্ট দেখার
কেউ নেই।
সুন্দলী সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দির কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন,
সরকারি অনুদান আর গ্রামবাসীর অল্প প্রণামির টাকায় কোনোরকমে পূজা শুরু
করেছি। এই পরিস্থিতিতে পূজা শেষ করাটাই সবচেয়ে বড় কষ্ট।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, ‘ভবদহ
একচেটিয়া হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। বড় করে দুর্গাপূজা করতে না পারাটা অত্যন্ত
দুঃখজনক।’
অভয়নগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখর কুমার সাহা
জানান, ‘ভবদহ পারের বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ নেই। তবে সরকারিভাবে
কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সঙ্গে টিআরএম চালু ও
আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের দাবি জানাই।’
এ বিয়ষে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার
ব্যানার্জী বলেন, “গতবারের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা কম। দুর্ভোগ লাঘবে
সেনাবাহিনী শিগগিরই ভবদহ অঞ্চলের পাঁচটি নদী পুনঃখনন করবে। পূজায়
জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here