মহাকবির “বটবৃক্ষ” কবিতার সেই বটগাছটি ঝড়ে পড়ে গেছে কবি, সাহিত্যিক-সংস্কৃতিমনা মানুষের দাবি রক্ষার

0
135

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের চতুর্দশপদী “বটবৃক্ষ” কবিতার সেই বটগাছটি ঝড়ে
উপড়ে গেছে। কালবৈশাখীতে ক্ষতি হয়েছে মধুপল্লীর মূল্যবান গাছপালাও। হঠাৎ
কালবৈশাখীর ছোবলে সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদ পারের মালোপাড়ায় কবির শৈশব কালের
স্মৃতি জড়িত বটগাছটি উপড়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষের মন ভারি হয়ে উঠেছে। কবি,
সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক মনা মানুষের দাবি উপড়ে পড়া ওই বটগাছটির অংশ বিশেষও
রক্ষা করতে পারলে পর্যটকরা এসে দেখতে পাবেন। মধুপল্লী কর্তৃপক্ষ উপড়ে পড়া বটগাছটি
সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
শনিবার দুপুরে হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে সাগরদাঁড়ি এলাকার ৫টি গ্রামের উপর দিয়ে
কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে এলাকার শত শত গাছপালা ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়। উপড়ে
যায় মধু কবির স্মৃতি বিজড়িত চতুর্দশপদী কবিতায় উল্লেখ করা “বটবৃক্ষ” কবিতার
সেই বট গাছটিও। স্থানীয় সূত্র জানায়, বটগাছটির বয়স আনুমানিক ২৫০ বছরের
অধিক।
সরেজমিন রবিবার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীর ভেতর অনেক গাছ
ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে। উপড়ে গেছে মালোপাড়ার বয়োঃবৃদ্ধ বটগাছটিও। স্থানীয় কবি,
সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিমনা মানুষ ওই বটগাছটির অংশ বিশেষও রক্ষা করার জন্য
প্রত্নতত্ত্বঅধিদপ্তরসহ বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
সাগরদাঁড়ির সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি সুভাষ দেবনাথ (৬০) বলেন, বটগাছটি ঝড়ে উপড়ে
পড়ায় এলাকার মানুষের মন খারাপ হয়ে উঠেছে। গাছটির বয়স হবে প্রায় ২৫০ বছরেরও
বেশি। সাগরদাঁড়ির আলোক চিত্র শিল্পী মুফতি তাহেরুজ্জামান তাছু জানান, মালোপাড়ায়
অবস্থিত ওই বটগাছটির একটি ঝুরি রক্ষা করতে পারলেও গাছটির চিহ্ন ধরে রাখা সম্ভব।
তার দাবি বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে নিলে গাছের অংশ বিশেষও রক্ষ করা সম্ভব
হবে। কারণ মাটির মধ্যে ওই গাছটির কয়েকটি ঝুরি আটকে রয়েছে।
মধুসূদন একাডেমির পরিচালক ও মধুসূদন গবেষক কবি খসরু পারভেজ জানান,
মহাকবির “বটবৃক্ষ” কবিতা চতুর্দশপদী কবিতা। কবির শৈশবে স্মৃতিময় এ বটবৃক্ষ
এলাকার মানুষের মন জুড়ে রয়েছে। বটবৃক্ষটির কিছু অংশ রক্ষা করা গেলেও পর্যটকরা এসে
বটবৃক্ষ কবিতার সেই গাছের কিছু অংশ দেখতে পেলেও খুশি হবেন।
সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীর কাষ্টডিয়ান হাসানুজ্জামান বলেন, কবির স্মৃতি বিজড়িত
সাগরদাঁড়ি মালোপাড়ার বটবৃক্ষটি ঝড়ে উপড়ে পড়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে
অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও মধুপল্লীর ভেতর অনেক গাছপালা ভেঙ্গে ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলার বন কর্মকর্তা সমীরণ বিশ্বাস বলেন, বন বিভাগের পক্ষ
থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঝড়ে উপড়ে পড়া ওই বটগাছটি
সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here