এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে টানা ৫২ বছর তাল গাছ আহরণ করছেন সাখাওয়াত হোসেন। তাল
গাছের সঙ্গে তাঁর এ জীবন সংগ্রাম গ্রামীণ অর্থনীতিতে এলাকার মানুষকে
প্রভাবিত করছে। সাখাওয়াত হোসেনের বয়স এখন ৬৬ বছর। ১৪ বছর বয়স থেকে তিনি
তাল গাছের মোচা (জটা) কেটে রস সংগ্রহ শুরু করেন। তাঁর বাড়ি কেশবপুর উপজেলার
শ্রীরামপুর গ্রামে। প্রতিবছর তিনি ১২ থেকে ১৫টি তাল গাছে আহরণ করে থাকেন।
দীর্ঘ ৫২ বছরের রস সংগ্রহের মৌসুমে এক দিনও তিনি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে
বিরত থাকেননি। তালের রস কাঁচা বিক্রি করেই তার সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা।
প্রতিদিন সকাল বিকেল শত শত মানুষ তাঁর গাছ তলায় রস খেতে ভিড় করেন।
উপজেলার বায়সা-শ্রীরামপুর সড়কের পাশে এ বছর তিনি ১২টি তাল গাছ আহরণ করে রস
সংগ্রহ করছেন। ৫২ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে কখন, কীভাবে গাছের মুচি কাটলে রস
সুস্বাদু হবে তা তার জানা রয়েছে। তিনি জানান, তাল গাছের জটা কাটা, ভাড়
পোড়ানো ও ভাড়ে চুন লাগানোর বিষয়টি অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। এ তিনটি কাজ যে
গাছি বোঝে তার রস নষ্ট হয় না। এ কাজে তাঁর ছেলে ফজর আলী (৪৬) সহযোগিতা করে
থাকেন। প্রতি গ্লাস কাঁচা রস তিনি ১০ টাকায় বিক্রি করেন। রস খেতে সব বয়সী
মানুষ গাছ তলায় ভিড় করেন।
তালের রস খেতে আসা বেলকাটি গ্রামের আব্দুর রশীদ বলেন, সাখাওয়াত হোসেনের তালের
রসের সুনাম এর আগে বহুবার শুনেছি। গতবছর রস খেয়েছি এবারও বছরের প্রথমে খেতে
এসে মুগ্ধ হয়েছি। পরিবারের জন্যও বোতলে করে নিয়ে যাচ্ছি। রস খুবই সুস্বাদু
লেগেছে।
এলাকার স্কুল শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, সাখাওয়াত হোসেনের দীর্ঘ বছর তালগাছ
আহারণ, গুড় ও পাটালি তৈরি গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতিতে সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি
গ্রামের মানুষদের অর্থনৈতিক ভাবেও তার ওই কাজ উৎসাহিত করে তুলছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, সাখাওয়াত
হোসেনের মতো অভিজ্ঞ গাছিরা আমাদের লোকজ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ৫২
বছর ধরে তার এই নিষ্ঠা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর জীবনে এ সংগ্রাম গ্রামীণ
অর্থনীতিতে অন্যদেরকেও প্রভাবিত করছে।














