ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি,ডুমুরিয়া : খুলনার ডুমুরিয়ায় ফজরের আজান দিতে যাওয়ার পথে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার সাহস ঘোষগাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত কারিমুল ইসলাম গাজী (৪৫) ওই গ্রামের আবুল কাশেম গাজীর ছেলে এবং নোয়াকাটি বাজার জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর ধরে কারিমুল গাজী নোয়াকাটি বাজার জামে মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো ভোরে ফজরের আজান দেওয়ার জন্য তিনি ঘর থেকে বের হন। তবে নির্ধারিত সময়ে তিনি মসজিদে না পৌঁছানোয় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলে মসজিদ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
কারিমুলের স্ত্রী মুর্শিদা বেগম জানান, প্রতিদিন রাত ৩টার দিকে তার স্বামী ঘুম থেকে উঠে মসজিদের উদ্দেশে বের হন। কিন্তু এদিন সকাল সাড়ে ৫টার দিকে মসজিদের ইমাম ফোন করে জানতে চান কারিমুল কোথায়, কারণ তিনি মসজিদে আসেননি এবং আজানও দেননি। পরে কারিমুলের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় এক মাদ্রাসা ছাত্রকে দিয়ে আজান দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘স্বামী মসজিদে না পৌঁছানোর খবর শুনে আমার মন অস্থির হয়ে ওঠে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি বাগানে তাকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নেওয়ার পর কারিমুলকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তার জ্ঞান ফিরলেও চিকিৎসকরা এখনো তাকে আশঙ্কামুক্ত ঘোষণা করেননি।’ কারিমুল গাজী একজন দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। গ্রামবাসীর কাছে তিনি শান্ত, ভদ্র ও নিরীহ ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। তার ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা।
হামলার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলতে না পারলেও কারিমুলের স্ত্রী জানান, চার বিঘা জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলাজট চলমান রয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে ওই বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত নন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ এবং স্থানীয় বিরোধসহ সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে ফজরের আজানের আগে একজন মুয়াজ্জিনের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।














