এইচএসসি ও আলিমের ফলাফলে মনিরামপুরে মেয়েরা এগিয়ে…..

0
8

রাহাত আলী,মনিরামপুরঃ শিক্ষা, দীক্ষা আর মননশীলতার আলোয় প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের চিত্র। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান এবং আলিম পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় সেই সাফল্যের মুকুট নিজেদের মাথায় পরেছেন নারীরা। কলেজ ও মাদ্রাসা-উভয় ক্ষেত্রেই পড়াশোনা থেকে শুরু করে জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিটি ধাপে ছাত্রীরা নিজেদের অদম্য মেধার স্বাক্ষর রেখে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। পুরুষের চেয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের এই কর্ণাঢ্য জয়রথ গোটা উপজেলা জুড়ে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে।
উপজেলার সাধারণ কলেজগুলোর এইচএসসি পরীক্ষার সামগ্রিক বিশ্লেষেণ দেখা যায়, মেয়েরা ফলাফল ও সাফল্যের দিক থেকে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে নজর কেড়েছে। কলেজ পর্যায়ের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করলেও স্পষ্ট হয় যে, সুশৃঙ্খল পড়াশোনা এবং লক্ষ্য অর্জনে ছাত্রীদের তুলনামূলক উপস্থিতি ও সাফল্যের হার আজ বহুগুণ বেশি। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উপজেলার টুিিনয়াঘরা মহিলা আলিম মাদ্রাসা, সুন্দলপুর আগরহাটী হাসানিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসা, শ্রীপুর আদর্শ মহিলা আলিম মাদ্রাসা, রাজাঞ্জ সিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, নেঙ্গুরাহাট ফাজিল মাদ্রাসা, মনিরামপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসা, লাউকুন্ডা এলাহিয়া আলিম মাদ্রাসা, লাউড়ীরামনগর কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মেয়েরা এগিয়ে। এই চিত্র প্রমাণ করে যে, কেবল সাধারণ শিক্ষায় নয়, মাদ্রাসার দীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত পরিবেশেও ছাত্রীরা নিজেদের সাফল্যের ধারা সমানভাবে বজায় রেখেছে।
এনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী মেহজাবিন জানায়, বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে যখন গভীর রাতে চোখ ভেঙে আসত, তখন মা-বাবার স্বপ্ন আর শিক্ষকদের উৎসাহ আমাকে ঘুমাতে দেয়নি। আজকের এই সাফল্য শুধু আমার একা নয়, এটি মনিরামপুরের প্রতিটি নারীর স্বপ্ন জয়ের গল্প। আমরা প্রমাণ করতে চাই, মেয়েরা অবহেলার পাত্রীনয়, তারা যেকোনো কঠিন পথ জয় করতে জানে। গর্বিত অভিভাবক আহমেদ শফি বলেন, সমাজ অনেক সময় মেয়েদের ঘরের কোণে আটকে রাখতে চায়, কিন্তু আজ আমার মেয়ের সাফল্যসহ সব মেয়ের এই দীপ্ত পদচারণা আমার বুকটা গর্বে ভরে দিয়েছে। মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে ধনী মানুষ আজ আমি। মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আফরোজা মাহমুদ বলেন, তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় বরাবরই মেয়েরা এগিয়ে। মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি মেয়েরা ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জণ করেছে, আজও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে তাদের চোখে যে আশার আলো দেখি, তাতেই আগামীর এক সোনালী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। তাদের এই অর্জন আমাদের শিক্ষক সমাজের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। মনিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাকী বিল্লাহ বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে আমাদের নানামুখী প্রচেষ্টার প্রকৃত মূল্যায়ন আজ এই মেয়েদের সাফল্যে প্রতিফলিত হয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং মেয়েদের অদম্য অধ্যবসায়ের ফসল ভাল ফলাফল আজ মনিরামপুরকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন, আজ আমাদের মেয়েরা প্রমাণ করেছে যে সুযোগ পেলে তারা কেবল সমকক্ষই নয়, বরং যেকোনো প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে। মনিরামপুরের এই নারীরা আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের আলোর দিশারী। তাদের এই জয়যাত্রা আমাদের বুক ফুলিয়ে বাঁচার প্রেরণা জোগায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here