যশোর দুই সন্তান নিয়ে পথে পথে অন্তঃসত্ত্বা বর্ষা, নেশা-পরকীয়ায় ভেঙেছে সংসার,ঋণের বোঝা কাঁধে

0
157

যশোর অফিস : ভালোবাসার টানে প্রায় ১৫ বছর আগে ঘর বেঁধেছিলেন বর্ষা খাতুন ও গোলাম রসুল। অভাব-অনটনের মাঝেও বাবার বাড়ির সহযোগিতায় গড়ে উঠেছিল ছোট্ট সংসার। কিন্তু স্বামীর নেশা, পরকীয়া ও ঋণের বোঝায় আজ সেই সংসার ভেঙে চুরমার। দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা বর্ষা এখন দিশেহারা।
যশোর সদর উপজেলার হৈবদপুর ইউনিয়নের বানিয়ানি গ্রামের রাজ্জাক মন্ডলের মেয়ে বর্ষা খাতুনের সঙ্গে ২০১২ সালে বিয়ে হয় নিছার বিশ্বাসের ছেলে গোলাম রসুলের। রসুলের নিজস্ব ভিটেমাটি না থাকায় বর্ষার পরিবারই তাকে আশ্রয় দেয়। শহরের প্যারিস রোড এলাকায় ফুলের চারার দোকানও করে দেন বর্ষার ভাইয়েরা।
অভিযোগ রয়েছে, রসুল দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। সম্প্রতি তিনি নিজের মামাতো শ্যালকের স্ত্রী শারমিন সুলতানা তন্নীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। যাওয়ার আগে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তি সূত্রে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সেই দায়ভার স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, কিছুদিন আগে যশোরে ফিরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হলে বর্ষার পরিবারই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর কৃতজ্ঞতা জানানোর পরিবর্তে উল্টো বর্ষার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন রসুল। এছাড়া অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়মিত ফোনে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বর্ষার ১২ বছর বয়সী ছেলে মো. রাতুল ও তিন বছরের ছেলে মো. আরিয়ান বর্তমানে মায়ের সঙ্গেই রয়েছে। অন্যদিকে তন্নীর আড়াই বছরের ছেলে আরহামকেও ফেলে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে দুই পরিবারের অন্তত ছয়জন সদস্য চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বর্ষা বলেন, “সন্তান প্রসবের সময় প্রায় চলে এসেছে। এই সময়ে মানসিক শান্তি আর পুষ্টিকর খাবার দরকার। কিন্তু দেনাদারদের ভয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
বর্ষার মামি স্বপ্না খাতুন জানান, তার ছেলের সংসারও ভেঙে গেছে। আড়াই বছরের শিশুকে রেখে পুত্রবধূ চলে যাওয়ায় পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।
এ বিষয়ে গোলাম রসুলের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here