স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের বাঘারপাড়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ে গাছের ডাল ছাঁটাইয়ের নামে ১৬টি মেহগনি গাছের বড় বড় ডাল কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্থানীয় চারজন শ্রমিক কলেজ ক্যাম্পাসের গাছগুলো ছাঁটাই করেন। এ সময় গাছগুলোর মোটা ডাল কেটে বড় বড় লগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজের মূল ভবনের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ২৫টি বড় মেহগনি গাছ। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ছায়া ও স্বস্তি দিয়ে আসছে। কিন্তু শনিবার ডাল ছাঁটাইয়ের নামে এসব গাছের বড় বড় ডাল কেটে ফেলা হয়। এতে গাছগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছের প্রয়োজনীয় ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ ডাল ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে মোটা ডাল কেটে লগ তৈরি করা হয়েছে। এসব লগ বিক্রির মাধ্যমে একটি চক্র আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তাঁদের দাবি। এর আগে বাঘারপাড়া সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গাছের ডাল ছাঁটাইয়ের নামে বড় বড় লগ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের দাবি, একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বাঘারপাড়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়েও।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
কলেজের সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ জানান, দীর্ঘদিন ধরে গাছের ডালপালার কারণে কলেজের ভবন ও খেলার মাঠে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে ডাল কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভূপালী সরকার জানান, কলেজের অধ্যক্ষ গাছের ডাল কাটার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ডালপালার কারণে কলেজের ভবন ও খেলার মাঠের ক্ষতি হচ্ছে। সে বিবেচনায় শুধু ছোট ডাল ছাঁটাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, গাছ কাটা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ছোট ডাল ছাঁটাইয়ের অনুমতির বিপরীতে ১৬টি মেহগনি গাছের মোটা ডাল কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনুমতির শর্ত মেনে কাজ করা হয়েছে কি না এবং কাটা ডালগুলোর পরবর্তী ব্যবস্থাপনা কী হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।














